মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি তাইজুল ইসলামকে স্থানীয়রা আটক করেছিলেন বলে দাবি উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রহমান মিয়াজীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির একটি কক্ষে তাঁকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে কয়েকজন তাঁকে আটক করেন। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার ভিডিওটি ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার পর ওই নারীকে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সহায়তায় সেখান থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে ডেকে পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁক করতেন তাইজুল ইসলাম। এ প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রভাবিত করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সরদার বলেন, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা হতো বলে তাঁর অভিযোগ। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে তাইজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদারীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এনায়েত হোসেন জানান, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিবচর থানার পরিদর্শক রাকিবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস