টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত, স্বপদে ফিরতে তদবির ডিএনসিসির সাবেক প্রকৌশলী আরিফুরের

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০১:১২:০০
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জালিয়াতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং তহবিল তসরুপের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই প্রকৌশলী অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুনর্বহালের জন্য ডিএনসিসির প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সময়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নগর ভবনের প্রশাসনিক ও প্রকৌশল বিভাগে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ৮ মার্চ ডিএনসিসির সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরে জারি করা অফিস আদেশে আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

https://www.soddosongbad.com/storage/uploads/26-27-08-2026-07-13-24.png

ডিএনসিসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা, দুর্নীতিপরায়ণতা এবং তহবিল তসরুপ বা প্রতারণার অভিযোগ বিবেচনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তাঁকে খোরাকি ভাতা দেওয়ার কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের দরপত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ এবং সংস্কারকাজের জন্য আহ্বান করা বেশ কয়েকটি ই-জিপি টেন্ডারে প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদন যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের পরিমাণও বড়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজকে অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের এই আর্থিক পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের দায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়।

বিশেষ করে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর বিভিন্ন উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই অঞ্চলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে ১৫টি টেন্ডার বিশেষভাবে তদন্তের আওতায় এসেছে বলে তাঁর আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব টেন্ডারের কোনো সুপারিশ তিনি করেননি বলে দাবি করেছেন আরিফুর রহমান। প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় ১৩ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর দাবি, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভাগের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ করতে হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের ল্যাপটপ ব্যবহার করে প্রধান প্রকৌশলীর আইডিতে প্রবেশ করে কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে।

আরিফুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৫টার পর এবং ২৯ জানুয়ারি বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দরপত্রগুলোর সুপারিশ করা হয়। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও ই-জিপি ব্যবস্থায় তাঁর নাম কীভাবে যুক্ত ছিল, সেটি তাঁর জানা নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।

নিজের আবেদনে আরিফুর রহমান আরও দাবি করেছেন, অঞ্চল-৫-এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান কয়েকটি দরপত্রের ক্ষেত্রে এমন ‘ওয়ার্ক ফ্লো’ তৈরি করেছিলেন, যেখানে দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

এ ছাড়া মূল্যায়ন পর্যায়ে তাঁর আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আরিফুর রহমান। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আগের প্রধান প্রকৌশলীর সময়েও একই ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল।

এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ ও ডিএনসিসির অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সম্পদের তথ্য এবং অভিযোগে উল্লেখ করা অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ পাচারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে।

তবে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান থাকায় অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ডিএনসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হওয়ার কারণে আরিফুর রহমানের প্রতিষ্ঠানে একটি প্রভাববলয় ছিল। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর সেই পুরনো যোগাযোগ ব্যবহার করে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

তবে আরিফুর রহমানের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর লিখিত আবেদনে মূলত নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দরপত্র-সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাখ্যা এবং তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থের সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানও জানিয়েছেন, আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন এবং বিভাগীয় মামলা ও দুদকের অনুসন্ধানের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিএনসিসির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের সময় করপোরেশনের সাধারণ তহবিলে নগদ অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অন্যদিকে বিভিন্ন তহবিলে থাকা ফিক্সড ডিপোজিটের অর্থ নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সংরক্ষিত ছিল।

এর মধ্যে আগের সময়ে অনুমোদিত বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় এবং দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় করপোরেশনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়।

তৎকালীন প্রশাসনের সময়ে অনুমোদিত উন্নয়নকাজ, অর্থ ব্যয় এবং দরপত্র প্রক্রিয়াগুলোও যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থের ব্যবহার ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁর মতে, ডিএনসিসির মতো বড় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বা দরপত্র জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো কর্মকর্তা বা গোষ্ঠী প্রভাব খাটিয়ে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করতে না পারে, সে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সদ্য সংবাদ/এসএস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু সদ্য. মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পথের ধারে পিঠা বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সদ্য. উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলো ভূমিমন্ত্রীকে সদ্য. মাসে ২০-২২টি বুকিং থাকত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের সেই ফ্ল্যাটে সদ্য. কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ সদ্য. সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় প্রথম স্থানে বিএনপির এমপি চাঁদের নাম সদ্য. সিসিইউতে ভর্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সদ্য. আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু সদ্য. মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পথের ধারে পিঠা বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক সদ্য. উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলো ভূমিমন্ত্রীকে সদ্য. মাসে ২০-২২টি বুকিং থাকত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের সেই ফ্ল্যাটে সদ্য. কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ সদ্য. সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় প্রথম স্থানে বিএনপির এমপি চাঁদের নাম