ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের নভেম্বরে। বইটিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘ পথচলা, ব্যক্তিজীবনের নানা উত্থান-পতন এবং রাজনীতিতে প্রবেশের পেছনের গল্প উঠে আসবে।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ নফ জানিয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে। ১৮ আগস্ট বইটির প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বইটিতে সোনিয়া গান্ধী তার পরিবার ও রাজনৈতিক জীবনের এমন কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যেগুলো এতদিন খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি। তার ভাষ্য, নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিয়ে বহু লেখা হলেও পরিবারের সদস্যদের মানবিক দিক, তাদের সিদ্ধান্ত ও দুর্বলতার বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অনালোচিত থেকে গেছে।
সোনিয়ার মতে, আত্মজীবনীটি মূলত তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা নিবেদন। পাশাপাশি কয়েক দশকে ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে বইটি।
ইতালিতে জন্ম নেওয়া সোনিয়া গান্ধী পড়াশোনার সময় যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়। রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে এবং জওহরলাল নেহরুর নাতি।
১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পর সোনিয়ার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এর কয়েক বছর পর রাজীব গান্ধীও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। স্বামীকে হারানোর পর একসময় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন সোনিয়া গান্ধী।
পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দীর্ঘ সময়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে দলটি একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে। তবে ২০০৪ ও ২০০৯ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করলেও সোনিয়া নিজে প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেননি। তার পরিবর্তে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আত্মজীবনীতে রাজনীতিতে প্রবেশের পেছনে ব্যক্তিগত শোক ও স্বজন হারানোর বেদনাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন সোনিয়া। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখার পর রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তাকে জনজীবনে আসতে হয়।
নিজের জীবনের কথা প্রকাশ্যে লেখাকে সহজ কাজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের এমন অনেক ঘটনা ও অনুভূতি রয়েছে, যা এতদিন নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন সোনিয়া।
শৈশবের ইতালির জীবন থেকে শুরু করে ভারতে রাজীব গান্ধীর স্ত্রী ও ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ হিসেবে কাটানো সময়- সব মিলিয়ে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও একটি ব্যক্তিগত বয়ান পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে সোনিয়া গান্ধীর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছে। তার ছেলে রাহুল গান্ধী ও মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা কংগ্রেসের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ফলে সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশের ঘোষণার পর থেকেই বইটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তসহ নেহরু-গান্ধী পরিবারের নানা অজানা অধ্যায় বইটিতে কীভাবে উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর পাঠকদের।
সদ্য সংবাদ/এসকে