নেপালে ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে পৌঁছানোর পথ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ওপরের অংশে পৌঁছে একটি ছোট ছিদ্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ওই পথ দিয়ে ইতোমধ্যে ভেতরে বাতাস পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে সেখান থেকে খনন করে উদ্ধারকারী দলকে সুড়ঙ্গের অভ্যন্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তবে এখনো সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা। তার ভাষ্য, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃষ্টির সঙ্গে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। ফলে উদ্ধারকারীদের একদিকে দ্রুত শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
জটিল এ উদ্ধার অভিযানে নেপালকে সহযোগিতা করছে ভারত ও চীন। দুই দেশ থেকেই বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মোট ২ হাজার ৫০২ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যকই বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক বলে জানা গেছে।
এদিকে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। এক শ্রমিকের ছোট ভাই রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভাইয়ের সন্ধানে তিনি দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে অপেক্ষা করছেন। তার মতো আরও অনেক পরিবার প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় উদ্বেগের মধ্যে সময় পার করছে।
উদ্ধারকারীদের আশা, সুড়ঙ্গের ভেতরে দ্রুত বাতাস পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন করে প্রবেশপথ তৈরির মাধ্যমে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পানির প্রবাহই এখন উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র:বিবিসি
সদ্য সংবাদ/এসএস