ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের সরবরাহে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় একদিকে বেড়েছে দাম, অন্যদিকে অনেক রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান থেকে বাদ পড়েছে গোরুর মাংসের বিভিন্ন পদ। পরিস্থিতির কারণে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক নাগরিক।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যে বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গোরু জবাইসংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৩ মে এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে গোরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। পাশাপাশি অনুমোদিত কসাইখানায় জবাইয়ের বিধানও কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কলকাতার মাংসের বাজারে। শহরের ট্যাংরা এলাকার একমাত্র পৌর কসাইখানা বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে কসাইদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নও আটকে রয়েছে। ফলে বৈধভাবে গোরুর মাংস সংগ্রহ ও বিক্রির সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় গোরুর মাংসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ রুপিতে পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৫০০ রুপিতে। রেস্তোরাঁয় এক প্লেট ভুনা মাংসের দামও ১০০ রুপি থেকে বেড়ে ১২০ রুপিতে উঠেছে।
দাম বাড়লেও ব্যবসায় কাঙ্ক্ষিত গতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং আগের তুলনায় বিক্রি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে গোরুর মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলছেন।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে কলকাতার পুরোনো ও জনপ্রিয় খাবারের দোকানগুলোতেও। অলি পাব ও জাম জামসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের মেনু থেকে গোরুর মাংসের পদ সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়া কিছু মাংস ব্যবসায়ী ও খামারি কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে এখন ছাগলের ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন।
তবে কিছু এলাকায় চাহিদা পূরণে তৈরি হয়েছে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও মুসলিম অধ্যুষিত মালদাসহ কয়েকটি এলাকায় রাতের আঁধারে গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে গোরুর মাংস পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার গোরুর মাংস খেয়ে থাকে। এসব পরিবারের মধ্যে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও রয়েছেন।
এদিকে ট্যাংরা কসাইখানা চালু এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন। তবে ওই বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠের দাবি, কসাইখানা পরিচালনা এবং পশুর ফিটনেস সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পৌরসংস্থার।
ফলে দায়িত্ব নিয়ে দুই দপ্তরের ভিন্ন বক্তব্যের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস