সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেকোনো উপায়ে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনাকে আবারও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আবারও গণমাধ্যমে কথা বলছেন, বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তিকর। তার ভাষ্য, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। যেকোনোভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর আইনি সুযোগ নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী সাজা ঘোষণার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ থাকে। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে এখন দেশে ফিরলেও শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ধাপে ধাপে নতুন কিছু বোয়িং কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।
অন্যদিকে, দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। জাহেদ উর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কমলেও বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি পরিমাণে এলএনজি আমদানি করতে পারছে না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দেশের রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ও চলমান সংকট মোকাবিলায় ভাসমান চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।
সদ্য সংবাদ/এসকে