নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। এরই অংশ হিসেবে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এলাকা ও গ্রেডভেদে নতুন বাড়িভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পাবেন। তবে গ্রেড অনুযায়ী এ হার ভিন্ন হবে।
ঢাকার দুই সিটি এলাকায় গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ। গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ, গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের জন্য বাড়িভাড়া হবে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ।
১১ সিটি ও দুই পৌর এলাকায় কত
খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় বাড়িভাতার হার ঢাকার চেয়ে কম রাখা হয়েছে।
এসব এলাকায় গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যন্ত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ, গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা ৩০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন।
অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া কত
দেশের অন্যান্য এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়িভাতার হার আরও কম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যন্ত মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ, গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ, গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ এবং গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের জন্য ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগের ব্যবস্থার সঙ্গে পার্থক্য
নতুন কাঠামোর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হতো। তবে এর ন্যূনতম পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬০০ টাকা।
মূল বেতন ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়িভাড়া ছিল ৬০ শতাংশ, ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা। ১৬ হাজার ১ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে হার ছিল ৫৫ শতাংশ, ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা।
আর ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি মূল বেতনের ক্ষেত্রে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া দেওয়া হতো ৫০ শতাংশ হারে, যেখানে ন্যূনতম পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৫০০ টাকা।
নতুন প্রজ্ঞাপনে এভাবে নির্দিষ্ট মূল বেতনের সীমার পরিবর্তে গ্রেড ও কর্মস্থলের এলাকা বিবেচনায় বাড়িভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর অন্যান্য ভাতার পূর্ণ কার্যকরও ধাপে ধাপে হবে; ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে