সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুরুতে কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক প্রশস্ত করতে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাছ না কেটেই প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার পরপরই দ্রুত উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। গত ২১ এপ্রিল সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী রবিউল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যাতে গাছ সংরক্ষণ করেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, মেরিন ড্রাইভকে আরও নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে সড়কের দুই পাশে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এতে সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি দুই লেনের সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।