যশোরের কেশবপুরের মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত প্রয়াত ডা. কামরুজ্জামানের ছোট মেয়ে নাজিফা জামান প্রজ্ঞা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত এই সাফল্যও নাজিফার মনে এনে দিতে পারেনি আনন্দ। কারণ, জীবনের সবচেয়ে বড় এই অর্জন দেখে যেতে পারেননি তার বাবা।
নাজিফা রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে নিউমোনিয়াজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তার বাবা ডা. কামরুজ্জামান। প্রায় ২০ দিন চিকিৎসার পর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। টানা ৩৬ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বাবার অসুস্থতার মধ্যেও নাজিফার বিশ্বাস ছিল, বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং তাকে নিজ হাতে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। সেই আশায় পরীক্ষা শুরুর দুই দিন আগে বাবার কাছ থেকে দোয়া নিতে হাসপাতালে যায় সে। কিন্তু সেদিন বাবাকে শুধু ছুঁয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো দোয়া নিতে পারেনি নাজিফা।
প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ করেও বাবাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল সে। কিন্তু দ্বিতীয় পরীক্ষার আগের দিন, ২২ এপ্রিল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. কামরুজ্জামান।
বাবার মরদেহ দাফনের জন্য বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফা জামান এশা ও ছেলে জারিফ জামান সামি যশোরের কেশবপুরে নিয়ে যান। ওই দিন রাতে উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের হাড়িয়াঘোপ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তবে পরদিন ২৩ এপ্রিল এসএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা থাকায় বাবার শেষ বিদায়ে থাকতে পারেনি নাজিফা। প্রিয় বাবাকে হারানোর গভীর শোক বুকে নিয়েই তাকে পরীক্ষার হলে বসতে হয়। একদিকে বাবাকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা—এই কঠিন সময় পার করেই বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ করে সে।
অবশেষে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নাজিফা জামান প্রজ্ঞা। কিন্তু এই সাফল্যের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে প্রয়াত বাবাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রয়াত ডা. কামরুজ্জামানের মতো নাজিফাও ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার মা ফেরদৌস আরা বেগম।
বাবার স্বপ্ন ও মানবিকতার আদর্শ বুকে ধারণ করে নাজিফা একদিন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে এটাই এখন পরিবারের প্রত্যাশা।
সদ্য সংবাদ/এসএস