রাজধানীর দক্ষিণখানে জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় উত্তরা পূর্ব থানা ছাত্রদলের সভাপতি এম সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পরে তাঁকে দক্ষিণখান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শামীমা আক্তার ডালিয়া ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের জন্য দক্ষিণখান থানা এলাকায় নিজেদের মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। এ উদ্দেশ্যে জমিতে বিক্রির বিজ্ঞপ্তিসংবলিত একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইনবোর্ড লাগানোর পরই মোকলেছুর রহমান ও এম সাজ্জাদ হোসেন জমির মালিকের কাছে গিয়ে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দাবিকৃত টাকা না দিলে জমি বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে বাদীকে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর শামীমা আক্তার ডালিয়া দক্ষিণখান থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির মামলা করেন।
মামলার দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে সাজ্জাদ হোসেনকে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মোকলেছুর রহমান, আল আমিন হোসেন শান্ত, সুমন, রনি, পলাশ, রায়হান, নাজমুল হাসান শুভ, শামীম, সিফাত, পাপাই, আহাদ, রকি, সামির, তুষার, তুহিন, নাঈম, পারভেজ, দীপু, নাহিদ ও সজিবসহ আরও কয়েকজন। এজাহারে কয়েকটি নাম একাধিকবার থাকায় আসামিদের পরিচয় ও প্রকৃত সংখ্যা তদন্ত করে যাচাই করার বিষয় রয়েছে।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফইমউদ্দিন জানান, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
সদ্য সংবাদ/ এআর