উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। সামরিক ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কঠোর ও নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার কোরিয়ান পিপলস আর্মির কোম্পানি কমান্ডারদের তৃতীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোকচিত্র ধারণের সময় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য দেন কিম।
তিনি বলেন, যুদ্ধের জন্য প্রতিটি ইউনিটকে প্রস্তুত করে তোলা কোম্পানি কমান্ডারদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণের মানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।
সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কিম আরও বলেন, দেশপ্রেম, বিপ্লবী আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা, সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি কোম্পানিকে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিপ্লবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, কিমের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কোরীয় উপদ্বীপে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে সিউল।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হলেও উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক যোগাযোগ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সিউলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং এবং আলোচনার প্রস্তাবেও সাড়া দেয়নি।
ডিএমজেডের ওই ঘটনা নিয়ে উভয় দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
সদ্য সংবাদ/এসএস