রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন সর্বস্তরের মানুষ।
খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা। অনেকে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন, কেউ কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এ সময় অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতেও দেখা যায়।
সরজমিনে বিকেল ৪টার দিকেও সমাধিতে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসা আকলিমা খাতুন বলেন, খবর শুনে তাঁর মন খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ঢাকায় আসার সুযোগ পেয়ে অন্তত একবার খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে দোয়া করার ইচ্ছা থেকেই তিনি সেখানে এসেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শক্ত নারী নেতৃত্বের প্রতীক।
সকাল থেকেই সদ্য প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ঢল নামে। কেউ এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে, কেউ অফিসে যাওয়ার পথে সময় বের করে, আবার কেউ দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে সমাধিতে হাজির হয়েছেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিয়া উদ্যানে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। কবর জিয়ারত শেষে অনেককে নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে দেখা যায়, কেউ স্মৃতিচারণায় মগ্ন থাকেন, আবার কেউ আশপাশ ঘুরে দেখেন। অনেক পরিবার ছোট শিশুদের সঙ্গেও সমাধিতে এসেছেন। বিশেষ করে দুপুর ২টার পর থেকে জিয়ারতকারীদের জনস্রোত আরও বৃদ্ধি পায়, যার মধ্যে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী অনেক শিশুকেও দেখা যায়।
এদিন জিয়া উদ্যানে একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্যও নজরে আসে। বেগম খালেদা জিয়ার কবরের উল্টো পাশে দেয়াল ঘেঁষে কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায় সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মিলনকে। তিনি বলেন, সকাল থেকেই মানুষ কবর জিয়ারত করতে আসছেন। তিনি কোরআন তিলাওয়াত করছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে দেশনেত্রী ও গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য জান্নাত কামনা করছেন।
এদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উপস্থিত থেকে সারিবদ্ধভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছেন। পুলিশ জানায়, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যায়ক্রমে সীমিত সংখ্যক মানুষকে সমাধিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।