তারকা থেকে নিঃস্ব ভারত ভূষণ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩৩
একসময় হিন্দি চলচ্চিত্রের রোমান্টিক নায়কদের অন্যতম ছিলেন ভারত ভূষণ। তাঁর ছবি মানেই ছিল দর্শকদের ভিড়, আর গান মানেই সুরের মুগ্ধতা। উনিশশ পঞ্চাশের দশকে ভারতীয় সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার জীবন শেষ হয়েছিল চরম আর্থিক সংকট ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে।

১৯৪১ সালে ‘চিত্রলেখা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু হলেও প্রকৃত সাফল্য আসে ১৯৫২ সালে। ওই বছর মুক্তি পাওয়া ‘বাইজু বাওরা’ ও ‘আনন্দ মঠ’ তাঁকে তারকাখ্যাতির শিখরে পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে ‘বাইজু বাওরা’য় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। পরে ‘বরসাত কি রাত’ ও ‘মির্জা গালিব’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রথম সারির নায়কদের একজন হয়ে ওঠেন।

সংবেদনশীল অভিনয়, চোখের ভাষা ও শান্ত ব্যক্তিত্ব তাঁকে সমসাময়িক অন্যান্য নায়কদের থেকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন ভদ্র, শিক্ষিত ও আবেগপ্রবণ এক রোমান্টিক নায়ক।

সাফল্যের সময় মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তাঁর তিনটি বাংলো ছিল। এর মধ্যে ‘আশীর্বাদ’ ছিল সবচেয়ে পরিচিত। পরে এই বাড়ির মালিক হন রাজেন্দ্র কুমার এবং পরবর্তীতে বলিউডের প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্না। একসময় চলচ্চিত্র অঙ্গনের জমজমাট আড্ডার কেন্দ্র ছিল এই বাংলো।

তবে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায় নামার সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেও সেগুলোর বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে ‘দুজ কা চাঁদ’ তাঁকে বড় আর্থিক ধাক্কায় ফেলে। ঋণের বোঝা সামলাতে একসময় বিক্রি করে দিতে হয় গাড়ি, বাংলো ও অন্যান্য সম্পত্তি। শেষ পর্যন্ত বান্দ্রার বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে মালাডের একটি ছোট ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন।

অর্থকষ্টের মধ্যেও অভিনয় ছেড়ে দেননি ভারত ভূষণ। নায়কের চরিত্র থেকে সরে এসে ছোট ছোট ভূমিকায় অভিনয় চালিয়ে যান। তাঁর মেয়ে অপরাজিতা ভূষণ পরে বলেন, তাঁর বাবা আত্মসম্মান বজায় রেখেই জীবন কাটিয়েছেন। যতটুকু কাজ পেয়েছেন, মর্যাদার সঙ্গে করেছেন; কখনো কারও সহানুভূতি কামনা করেননি।

ভারত ভূষণকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণ করেছেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি লিখেছেন, একদিন বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে। তাঁকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার কথা ভেবেও শেষ পর্যন্ত তা করেননি, কারণ এতে প্রবীণ অভিনেতা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন বলে মনে হয়েছিল। সেই দৃশ্য তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছিল, তারকাখ্যাতি চিরস্থায়ী নয়।

সাংবাদিক আলী পিটার জন দাবি করেছিলেন, ভারত ভূষণের শেষকৃত্যে মাত্র আটজন উপস্থিত ছিলেন। যদিও পরে তাঁর মেয়ে অপরাজিতা এ বিষয়ে প্রচলিত কিছু তথ্যের বিরোধিতা করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল নিঃসঙ্গতায় ভরা। ১৯৯২ সালে ৭২ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ভারত ভূষণ। শেষ সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন মেয়ে অপরাজিতা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. ডিসেম্বর সামনে রেখে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি মহল: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দর বাণিজ্য চুক্তির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি সদ্য. শ্রমিক অসন্তোষ: জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর সদ্য. রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে নরওয়ের সহযোগিতা চাইলেন স্পিকার সদ্য. আত্মপ্রকাশ করছে এনসিপির নতুন উইং, যোগ দিচ্ছেন ফাহিম-নাজমুল সদ্য. তিন দিনের মধ্যে ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চায় পুলিশ সদরদপ্তর, বিভিন্ন ইউনিটে চিঠি সদ্য. আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না-মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি সদ্য. পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ, উত্তাল মিরপুর-১০ সদ্য. সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. ডিসেম্বর সামনে রেখে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি মহল: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দর বাণিজ্য চুক্তির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি সদ্য. শ্রমিক অসন্তোষ: জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর সদ্য. রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে নরওয়ের সহযোগিতা চাইলেন স্পিকার সদ্য. আত্মপ্রকাশ করছে এনসিপির নতুন উইং, যোগ দিচ্ছেন ফাহিম-নাজমুল সদ্য. তিন দিনের মধ্যে ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চায় পুলিশ সদরদপ্তর, বিভিন্ন ইউনিটে চিঠি সদ্য. আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না-মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি সদ্য. পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ, উত্তাল মিরপুর-১০