বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হন একদল শিক্ষার্থী। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
অবরোধের কারণে ঢাকা ও গাজীপুরমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এছাড়া গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ছিল বলেও দাবি করেন তারা।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।