বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। এ রায় ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিও একই মেয়াদের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তৎকালীন ছাত্র আন্দোলন দমন করতে উসকানি ও সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করা হয়েহে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলিতে শিক্ষকেরা ও ছাত্রলীগের নেতা নিরপেক্ষ থেকে উল্টো আক্রমণকারীদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন, যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।
বিচারকরা বলেন, 'জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনার প্রতি সম্মান রেখে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই রায় প্রদান করা হয়েছে।'
শহীদ আবু সাঈদের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিয়েছেন। সরকার ও প্রসিকিউশন টিম এই রায়কে দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে।