ব্রাজিল বহু বছর ধরে আখ চাষে সমৃদ্ধ। সেই আখ থেকেই রস সংগ্রহ করে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় ইথানল—এক ধরনের জৈব জ্বালানি। এই ইথানল সরাসরি বা পেট্রোলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়।
বিশেষ করে ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিনযুক্ত গাড়িগুলো সহজেই ইথানল বা পেট্রোল—দুটোতেই চলতে পারে। ব্রাজিল সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ইথানলকে জনপ্রিয় করেছে। এতে তেলের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে।
প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। আখ থেকে রস নিষ্কাশন করে তা গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানলে রূপান্তর করা হয়। শুধু জ্বালানি নয়, উৎপাদন প্রক্রিয়াটিও টেকসই। আখের রস বের করার পর যে অবশিষ্ট আঁশ বা বাগাস থাকে, তা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা কারখানার চাহিদা মেটায়।
এই পুরো ব্যবস্থার ফলে এটি হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব এক জ্বালানি। কম কার্বন নিঃসরণ, নবায়নযোগ্য উৎস এবং কম খরচ—সব মিলিয়ে ইথানল এখন তেলের শক্তিশালী বিকল্প।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিভিত্তিক সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আখের রস থেকে জ্বালানি উৎপাদনে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্রাজিল। তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত এই জ্বালানি দেশটির জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বব্যাপী তেলের সংকট চলমান থাকলেও, নিজস্ব উৎপাদিত ইথানলভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভর করে যানবাহন সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্ত রয়েছে ব্রাজিল।