আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি:‘আগেই শ্বাসরোধে ৩০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ শতাধিক

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩১
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। জীবিত উদ্ধার হওয়া এক যাত্রীর বর্ণনায় জানা গেছে, ট্রলারটি ডোবার আগেই শ্বাসরোধে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়। এখনও প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে।

উদ্ধার হওয়া যাত্রী রফিকুল জানান, গত ৪ এপ্রিল একটি ছোট মাছধরা নৌকায় করে তাদের যাত্রা শুরু হয়। ওই নৌকায় নারী, শিশু, নাবিক ও মানবপাচারকারীসহ প্রায় ৩০০ জনকে গাদাগাদি করে তোলা হয়। পরে মিয়ানমারের উপকূলের কাছে গিয়ে তাদের একটি বড় ট্রলারে স্থানান্তর করা হয়।

রফিকুল বলেন, 'সমুদ্রপথে টহল এড়াতে পাচারকারীরা যাত্রীদের মাছ ও জাল রাখার সংকীর্ণ স্টোররুমে আটকে রাখে। সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট হচ্ছিল। চার দিন চার রাত আমরা সেখানে বন্দি ছিলাম। ট্রলার ডোবার আগেই অন্তত ৩০ জন শ্বাসরোধে মারা যায়।'

পরবর্তীতে উত্তাল সাগরে ট্রলারটি উল্টে গেলে অধিকাংশ যাত্রী পানিতে পড়ে যায়। তখন ট্রলারে প্রায় ২৪০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল বলে জানান রফিকুল।

ঘটনার পর সাগরে ভাসমান অবস্থায় একটি বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই ট্রলারটি ডুবে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনও কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবিকার অভাব তাদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য করছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আশায় তারা জীবন বাজি রাখছে।

বর্তমানে কক্সবাজারে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। তবে ক্রমাগত খাদ্য সহায়তা হ্রাস, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) এক জরিপে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা অভিভাবকদের মাত্র ২ শতাংশ তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। খাদ্য সহায়তা কমে গিয়ে মাথাপিছু মাসিক বরাদ্দ নেমে এসেছে প্রায় ৭ ডলারে। এর ফলে বহু পরিবার চরম সংকটে পড়েছে; প্রায় ৬৯ শতাংশ শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অর্ধেকের বেশি শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রোববার থেকে শুরু পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সদ্য. রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সদ্য. একসঙ্গে পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সরকারি সব কলেজের উদ্দেশে মাউশির জরুরি নির্দেশনা সদ্য. ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে সহায়তা চাইল বাংলাদেশ সদ্য. আমার রিসার্চের সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান: শিক্ষামন্ত্রী সদ্য. ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী সদ্য. ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী সদ্য. ঢাকায় হতে পারে বৃষ্টি, কমতে পারে তাপমাত্রা সদ্য. ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রোববার থেকে শুরু পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সদ্য. রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সদ্য. একসঙ্গে পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সরকারি সব কলেজের উদ্দেশে মাউশির জরুরি নির্দেশনা সদ্য. ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে সহায়তা চাইল বাংলাদেশ সদ্য. আমার রিসার্চের সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান: শিক্ষামন্ত্রী সদ্য. ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী সদ্য. ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী সদ্য. ঢাকায় হতে পারে বৃষ্টি, কমতে পারে তাপমাত্রা