সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্টজনেরা তাঁকে এক অপরাজেয় ও মমতাময়ী নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এই সভায় বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও মানসিকতা ধারণের জন্য সব রাজনীতিবিদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা মরহুম নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সহনশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, দীর্ঘ কারাবাস ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মুখেও খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে যাননি। বরং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর শেষ ভাষণে যে উদারতা ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ছিল, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক শক্ত ভিত হয়ে থাকবে।
গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ খালেদা জিয়ার জীবনকে ত্যাগ ও উত্থানের এক মহাকাব্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আশির দশকে দলকে যেভাবে তিনি সংগঠিত করেছিলেন, তা তাঁকে চিরকাল ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে স্মরণীয় করে রাখবে। অন্যের অধিকার রক্ষায় তাঁর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিয়া দম্পতি বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক বিরল জনপ্রিয় যুগল, যারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের হৃদয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর খালেদা জিয়ার পরিমিতিবোধ ও রুচিশীলতার প্রশংসা করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর নির্যাতনের মধ্যেও তিনি কখনো প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়ার সততা ও দেশপ্রেম ছিল প্রশ্নাতীত। অতীতে একটি বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে তাঁকে যে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে বর্তমান মুক্ত পরিবেশে মানুষের এই অবারিত ভালোবাসাকে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।