সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি দীর্ঘদিন ধরেই কম বাজেটে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে। ‘রোমাঞ্চম’, ‘প্রেমালু’, ‘মানজুম্মেল বয়েজ’ ও ‘মালিকাপ্পুরাম’-এর মতো সিনেমাগুলো স্বল্প বাজেটেই শতকোটি ক্লাবের দরজা খুলে দিয়েছে। তবে ‘ভাজা ২’ সেই সাফল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে গতির দিক থেকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি কেরালার বক্স অফিসেই ১৫ দিনের মধ্যে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে। আর বিশ্বব্যাপী আয় ইতোমধ্যেই ২০০ কোটি রুপি অতিক্রম করেছে। এর ফলে এটি মালয়ালম সিনেমার ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে শতকোটি ক্লাবে প্রবেশ করা চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।
চিত্রনাট্যকার ভিপিন দাস জানিয়েছেন, এর আগে ‘থুডারুম’ ১৯ দিনে এবং ‘লোকাহ: চ্যাপ্টার ওয়ান’ ২৪ দিনে শতকোটি আয় করেছিল। সেই সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে ‘ভাজা ২’।
নবাগত পরিচালক সাভিন এস পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভাজা: বায়োপিক অব আ বিলিয়ন বয়েজ’-এর সিকুয়েল। প্রথম পর্বটি পরিচালনা করেছিলেন আনন্দ মেনন। অবাক করা বিষয় হলো, এত বড় সাফল্য সত্ত্বেও সিনেমাটিতে কোনো বড় তারকা নেই। বরং একদল তরুণ অভিনেতার শক্তিশালী পারফরম্যান্সই দর্শকদের মন জয় করেছে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে চার বন্ধু—হাশির, অ্যালান, অজিন ও বিনায়ক। পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা এই তরুণদের সমাজ প্রায়ই ‘অকর্মণ্য’ হিসেবে দেখে। তবে তাদের অটুট বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সমর্থন এবং সংগ্রামের গল্পই সিনেমার মূল আবেগ। কমেডির আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে কিশোর-তরুণদের বাস্তব জীবনের কঠিন দিক এবং পারিবারিক চাপের প্রভাব।
সমালোচকদের মতে, বড় তারকা ছাড়াই শক্তিশালী গল্প ও বাস্তবধর্মী উপস্থাপনার কারণে ‘ভাজা ২’ দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
এদিকে সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর নির্মাতারা ঘোষণা দিয়েছেন ‘ভাজা ৩’-এর। জানা গেছে, তৃতীয় পর্বে নারীদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সংকট তুলে ধরা হবে।
মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির এই ধারাবাহিক সাফল্য আবারও প্রমাণ করল—গল্পই শেষ কথা, আর ভালো গল্প হলে বাজেট বা তারকা নয়, দর্শকরাই তাকে ইতিহাসে জায়গা করে দেয়।