১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী মাস্টারদা সূর্য সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। এর আগে ১৯৩০ সালে সংঘটিত ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ‘যুগান্তর’ দলের চট্টগ্রাম শাখার প্রধান হিসেবে সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা পালন করেন তিনি।
১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে সূর্য সেনের জন্ম। তাঁর পূর্ণ নাম সূর্য কুমার সেন। শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি ‘মাস্টারদা’ নামে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। ডাকনাম ছিল কালু। পিতা রাজমণি সেন ও মাতা শশীবালা সেন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।

পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি বিপ্লবী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর বীরত্বগাথা আজও ভারত ও বাংলাদেশে সমানভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দুই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাঁর জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাস্টারদার স্মরণে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে। কলকাতা মেট্রোর বাঁশদ্রোণী স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘মাস্টারদা সূর্য সেন মেট্রো স্টেশন’। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হল এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাস্টারদা সূর্য সেন হল তাঁর স্মৃতিবহনকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে তাঁর জন্মগ্রাম বর্তমানে ‘সূর্যসেন পল্লী’ নামে পরিচিত। সেখানে তাঁর পৈতৃক ভিটায় ২০০৩ সালে এক একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মাস্টারদা সূর্য সেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
ফাঁসি দিবস উপলক্ষে রাউজান সদরের সূর্যসেন চত্বর ও নোয়াপাড়ার পৈতৃক ভিটায় স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।