দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। তবে এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে না পারলে তা ভবিষ্যতে বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের মতো দেশ জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশকেও তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জীবনদক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর অদক্ষ ও কর্মসংস্থানহীন জনগোষ্ঠী জাতীয় উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে এ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা প্রমুখ।