যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইনডিপেনডেন্ট' এর এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই সংকট অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম তেল-শূন্য দেশে পরিণত হতে পারে।
প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে ইতোমধ্যেই জ্বালানি সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করছেন মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা। অনেক ক্ষেত্রেই পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
এই পরিস্থিতির ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটের অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি রেশনিং চালুর কথা বিবেচনা করছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা এবং প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল, তবুও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র পূর্বাঞ্চলীয় তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ এ মজুত অপরিশোধিত তেল দিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। অন্যদিকে মার্চের শুরুতে ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা পূরণের মতো, যা দ্রুত কমে আসছে।
সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।