বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে “অত্যন্ত ইতিবাচক” বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শি জিনপিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে না। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে তেহরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দিতে পারে বেইজিং। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দাবি করেছিল, চীন ইরানকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে সামরিক সহায়তার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও চীন ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন শি জিনপিং। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও বৈঠক থেকে বড় অগ্রগতির দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, চীন ২০০টি বোয়িং জেট কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চীনের এটিই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বিমান ক্রয়ের উদ্যোগ হতে পারে।
এ ছাড়া চীন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ও পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। এতে মার্কিন কৃষকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন ভিসা নীতিতে কিছুটা শিথিলতার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
তবে বৈঠকের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের আড়ালে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা স্পষ্ট ছিল
অন্যদিকে, ইরানকে গোপনে সামরিক প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে চীনের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের সন্দেহ পুরোপুরি কাটেনি।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিন শেষে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ আয়োজিত এক রাজকীয় ভোজসভায় অংশ নেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইলন মাস্ক ও টিম কুকসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ