প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘টিইই০১বি’ নামের স্যাটেলাইটটি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘আর্থ আই কোম্পানি’ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ নামে একটি বিশেষ রপ্তানি ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপনের পর স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি ক্রেতার কাছে দেওয়া হয়। স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য আইআরজিসি বেইজিংভিত্তিক ‘এম্পোসাট’-এর বৈশ্বিক গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির বিস্তারিত ছবি ধারণ করে এই স্যাটেলাইট। উল্লেখ্য, ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন যে ওই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চালানো হয়। একই সময়ে এসব এলাকায় হামলার দাবি করে আইআরজিসি। নজরদারির আওতায় কুয়েত, জিবুতি ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রও ছিল বলে জানা গেছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, চীনা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত সংবেদনশীল প্রযুক্তি ইরানের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়।
যদিও চীন বরাবরই ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে চীন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে চীনের এমন সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহায়তার খবর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান রাশিয়ার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।