চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে চন্দনাইশ উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন পাওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। রোববার সন্ধ্যায় তাঁর মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে জসিম উদ্দিন আহমেদের ছবি শেয়ার করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো তথ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে জসিম উদ্দিন আহমেদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। পরে মোবাইল ফোনে তিনি নিজেই তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, জসিম উদ্দিন আহমেদ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সহযোগী। তাঁর মালিকানায় কক্সবাজারে ‘রামাদা কক্সবাজার’ এবং দুবাইয়ে ‘রামাদা দুবাই’ হোটেল রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি এলাকায় ‘মহল মার্কেট’, খুলশীতে ‘জসিম হিল পার্ক’সহ একাধিক বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনার মালিক তিনি। তাঁর সম্পদের উৎস ও দ্রুত উত্থান নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবেক দুই আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শহিদুল হকের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল এবং আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যিনি সুবিধাভোগী ছিলেন, তাঁর হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া দলের জন্য লজ্জাজনক এবং এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁর ছবি থাকতেই পারে। এসব বিষয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। সূত্র: আজকের পত্রিকা