১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেনাজ হুমায়রা কুহেলীসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ১৩ প্রার্থী। অন্যায়ভাবে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দ্রুত গেজেটভুক্ত করে যোগদান নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইবিয়ান শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের নিচে মানববন্ধন করেন আইন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এমন প্রহসনমূলক আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না। দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে মেধার ভিত্তিতে চাকরি দিতে হবে। মানুষের জীবিকার অধিকার বাধাগ্রস্ত যেন না হয়। আশা করবো, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৩ জনকে গেজেটেড করে চাকরিতে যোগদান নিশ্চিত করা হোক।’
আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব বাবু চাকলাদার বলেন, ‘সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে গেজেটেড করা হয়নি। প্রশাসন কিসের ভিত্তিতে তাদের গেজেট দেয়নি—প্রশাসনের কাছে আমরা জানতে চাই। এটা শুধু একটি সংখ্যা নয়, তারা আমাদের পরিবারের অংশ। তারা বিজেএস প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রতিটি পরীক্ষায় তারা মেধার স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। তারপরও প্রশাসন তাদের প্রতি প্রহসনমূলক আচরণ করেছে। আমরা চাই অন্যায়ভাবে বঞ্চিত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের গেজেটভুক্ত করে অনতিবিলম্বে তাদের চাকরিতে যোগদান নিশ্চিত করা হোক।’
পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষকরা স্বাগত জানিয়েছেন এবং যৌক্তিক আন্দোলনে সবসময় পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আছি। প্রহসনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে যদি হাইকোর্টে রিট করার প্রয়োজন হয়, আমরা সেদিকেও অগ্রসর হবো ইনশাআল্লাহ।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ১ হাজার নম্বরের বিজেএস লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিজেএসে মোট ১০২ জনকে সুপারিশ করা হয়। তবে গত ২৭ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে কেবল ৮৮ জনকে সিভিল জজ (শিক্ষানবিশ) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাকি ১৩ জন বাদ পড়েন।