প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েও দলটির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সূত্র জানায়, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তিনজন প্রবীণ নেতা এবং একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি অতীতে কোনো মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীত্ব পাননি। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে তিনি কুয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, তার এই ব্যতিক্রমী কর্মজীবন ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাকে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত করেছে। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত এই প্রবীণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে সেই বিশ্বস্ততার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও নেতৃত্ব বিএনপির অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে রাখার বিষয়টি বিএনপির ভেতরে গুরুত্বসহকারে আলোচিত হচ্ছে। অতীতের তিনটি নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন—এমন আলোচনা আগেও ছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়।
এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান–এর নামও রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে। দলীয় নেতারা জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে, যার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী–এর নামও উঠে এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।