বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী দরদাতাদের আগামী ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে। নিলামের সময় আদালতের নিয়ম অনুসারে দর আহ্বান করা হবে এবং তখনই সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দায়ভার ব্যাংক বা আদালত নেবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র থেকে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে ২০২১ সালে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের পর্ষদ গ্লোব জনকণ্ঠের অধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২২৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ অনুমোদন দেয়। একই বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ঋণের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) প্রদান করে।
গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের অধীনে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে: মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স, জনকণ্ঠ, গ্লোব কনস্ট্রাকশন, গ্লোব খামার প্রকল্প এবং গ্লোব টেকনোলজিস। তবে বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই কার্যক্রমহীন। গত মার্চ মাসে বাংলা দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ তাদের ছাপা ও অনলাইন কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বড় গ্রাহকদের খেলাপি ঋণের চাপে জনতা ব্যাংকের সামগ্রিক পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে উঠেছে। বেক্সিমকো, এস আলম, থার্মেক্স গ্রুপ ও অ্যাননটেক্স গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। গত বছরের শেষে ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশই মন্দ বা খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত।
জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবুর রহমান বলেন, 'অর্থঋণ আদালত আইনের বিধান অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রথমে নিলামের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়। তবে নিলামে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেলে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে, গত বছর প্রায় ৯০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করতে পেরেছি।'