জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় নিজেই আইনজীবী হিসেবে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান।
শুনানির শুরুতেই তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেন। আদালতে তিনি নিহত ১০ জনের একটি তালিকাও জমা দেন, যেখানে তার ভাষ্য অনুযায়ী ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের।
এছাড়া একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা এবং উচ্ছেদের ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি নাবালিকাদের ওপরও হুমকির ঘটনা ঘটছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে কি না। তার দাবি, কোথাও কোথাও এফআইআর গ্রহণেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ কোনো ‘বুলডোজার রাজ্য নয়। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।'
উল্লেখ্য, ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসে। এরই প্রেক্ষিতে এই মামলা ও আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংকটের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ান—এই উপস্থিতি তারই প্রমাণ। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এসব সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল বলে দাবি করা হয়েছে।