সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের আশপাশে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম আগের অবস্থানেই বহাল থাকবে। এ পদক্ষেপকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালে তেহরানের ওপর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন ভয়াবহ হামলা চালাবে, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে দুর্বল হয়েছে, তবে মার্কিন বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে, যেখানে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালী নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত মানা না হলে যুদ্ধবিরতি শেষে আবারও ‘লড়াকু অভিযান’ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, 'বর্তমানে মার্কিন সেনারা ‘লোডিং ও রেস্টিং’ পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা পরবর্তী অভিযানের জন্য প্রস্তুত। ইরানের কাছে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না, এটিই যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান।'
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, ইরান যদি চুক্তির শর্ত নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে, তাহলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ফের শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান ও ইরানের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদে ১০ এপ্রিল নির্ধারিত শান্তি আলোচনা সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময়ে ট্রাম্পের এই শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যত একটি আল্টিমেটাম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে সম্মত হতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।