আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) এর ইরানি প্রতিনিধি আলী মুসাভি মেহর আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরান আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার পাশাপাশি আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও অধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বারোপ করছে।
তিনি বলেন, 'ইরান হরমুজ প্রণালীতে নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএমও এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে হরমুজ প্রণালী কেবল ইরানের ‘শত্রু দেশ’-এর জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।'
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে দায়ী করেছেন মুসাভি। তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডই অঞ্চলের নৌ-চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে শত শত তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালীতে আটকা থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের শর্তসাপেক্ষ অনুমতির প্রস্তাব আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের বার্তা স্পষ্ট, তারা বিশ্ব বাণিজ্য অচল করতে চায় না, বরং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ ইরানের এই প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে, কারণ বিকল্প কোনো নিরাপদ পথ না থাকায় হরমুজ প্রণালী সচল রাখা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
ইরান জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়া গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। বিশ্বজ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এখন মূলত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা