প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপ বাড়াতে দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য পরিকল্পনায় রয়েছে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা এবং প্রথমবারের মতো বড় আকারে স্থলবাহিনী মোতায়েনের চিন্তা। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, তেহরানকে আলোচনায় নতি স্বীকারে বাধ্য করতেই এ প্রস্তুতি।
পেন্টাগনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু তালিকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্ক, লারাক ও আবু মুসা দ্বীপের নাম রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে ইরানি তেলবাহী জাহাজে কঠোর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনাও বিবেচনায় আছে।
মার্কিন প্রশাসনের কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা স্থল অভিযানকে এখনো ‘চরম’ ও ‘কাল্পনিক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো বিকল্পই পুরোপুরি নাকচ করেননি।
এদিকে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর মধ্যস্থতায় একটি কার্যকর সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
খবরে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত এক ডজন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
চার সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও, যেখানে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না এলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।