মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে খাটের নিচ থেকে মাথাবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম ও আলামত নষ্ট করতে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত জাকির ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, রামিসার পরিবার প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় তার। পরে দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি।
পুলিশের দাবি, তখনই ফ্ল্যাটের ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। মূল অভিযুক্ত জাকিরকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দরজা খুলতে দেরি করেন। পরে জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দরজা খোলেন।
পুলিশ জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে স্বপ্না সরাসরি সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।