প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই হামলায় তার বাবা ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যদিও মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে যান, তবে তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। তার একটি পা প্রস্থেটিক বা কৃত্রিমভাবে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখমণ্ডল ও ঠোঁটে গুরুতর দগ্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার চেহারা আংশিক পুনর্গঠনে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে তার চিকিৎসা তদারকি করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি পেশায় একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। নিরাপত্তাজনিত কারণে শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলছেন। মোজতবা খামেনি এখন কোনো মৌখিক বক্তব্য দিচ্ছেন না; বরং লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্রমেই চলে যাচ্ছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জেনারেলদের হাতে। বিশেষ করে, আহমদ ওয়াহিদি এবং মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদ্র বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
অন্যদিকে, বেসামরিক সরকার অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও তার মন্ত্রিসভা মূলত অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের মতো দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-এর তুলনায় পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে সামরিক বাহিনী শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মতো রাজনৈতিক বিষয়েও সরাসরি অংশ নিচ্ছে। প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলে শীর্ষ জেনারেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির অসুস্থতা এবং সামরিক নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইরানকে ধীরে ধীরে একটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটির ভবিষ্যৎ এখন অনেকাংশেই নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতা এবং পর্দার আড়ালে থাকা সামরিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: এনডিটিভি