রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় আনসারের এক দলনেতা অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার আনসার বাহিনী থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্য প্রশিক্ষণ না থাকলেও নির্বাচনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদেরও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যে কাউকেই তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর গুলশান থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, হাতিরঝিলের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর নিবিড় তদারকি চালিয়ে এই দুর্নীতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের নেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে দায়িত্ব দেওয়ার নামে জনপ্রতি এক হাজার ১০০ টাকা করে উৎকোচ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ওয়ার্ড দলনেতা মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক সক্ষমতাই নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাও বাধ্যতামূলক। ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য কিংবা প্রভাবিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে এবারের নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, যার মধ্যে আনসার সদস্যের সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি।