জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে অংশ নেওয়া সিপাহি ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জিয়া পরিষদ। পাশাপাশি দেশবাসী, সরকার, বিভিন্ন বাহিনী ও সাধারণ জনগণকে দিবসটির শুভেচ্ছা জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এসব কথা জানান।
বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সিপাহি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা দেশের পরিস্থিতিতে নতুন মোড় এনেছিল। তাঁদের মতে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় সেদিনের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, ১৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে একদল সেনাসদস্য তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দি করেন। পরে ৭ নভেম্বর সিপাহি ও সাধারণ জনতা তাঁকে মুক্ত করেন। এই ঘটনাকে তাঁরা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারণা বিকশিত হয়। তাঁদের দাবি, তাঁর শাসনামলে জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক সহাবস্থান, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।
জিয়া পরিষদের নেতারা মনে করেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতিফলন পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে তা আবার জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করেন তাঁরা।
বিবৃতির শেষাংশে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যাশা জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে অংশ নেওয়া সিপাহি ও সাধারণ মানুষের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন ইবি জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সদ্য সংবাদ/এসএস