জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সংঘাতে জড়িয়েছেন বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরে পৃথক মিছিল নিয়ে আসা দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জামালগঞ্জ থানা ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা সদরে আলাদাভাবে মিছিল বের করে বিএনপির দুটি পক্ষ। মিছিল দুটি থানার সামনের সড়কে কাছাকাছি এলে রাস্তা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু এর মধ্যেই শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের একজনকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সংঘাতে জড়ানো পক্ষ দুটির একটির নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান। এ পক্ষের সঙ্গে রয়েছেন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান ও জুলফিকার চৌধুরী। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার ও আবদুল মালিক।
ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। মাসুম মাহমুদ তালুকদারের দাবি, তাদের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। প্রতিপক্ষের লোকজন পথ আটকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
অন্যদিকে জুলফিকার চৌধুরী জানান, তারা মিছিল শেষে উপজেলা পার্কে সমাবেশ করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ সেখানে গিয়ে মিছিল ও স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী জানান, দুটি মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে দুই পক্ষ পৃথক স্থানে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস