জামালপুর সদর উপজেলার তুলসীর চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় মাংস পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) নুরুন্দি ইউনিয়নের তুলসীর চর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালন সূত্রে জানা যায়, এলাকায় অবৈধভাবে মাংস সংরক্ষণ ও পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি করে একটি স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। পরিদর্শন ও প্রাথমিক যাচাই শেষে এগুলো ঘোড়ার মাংস বলে নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রায় ৯০০ কেজি মাংস জব্দ করা হয়।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাংসের উৎস ও পরিবহনের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং অননুমোদিতভাবে মাংস বাজারজাত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদালত পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর আওতায় তিনজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালক ও হেলপারকে দুই মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায়ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জব্দ করা মাংস যেন কোনোভাবেই পুনরায় বাজারে বিক্রি বা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস