নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া দুজন হলেন ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার। তারা বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রোববার পৃথক আদেশের মাধ্যমে দুজনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে উল্লেখ করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বরখাস্তকালীন সময়ে তারা খোরপোশ ভাতা পাবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। সে সময় তদন্তের পর তাদের মূল কর্মস্থল থেকে অন্য দুটি বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সাইফুল ইসলামকে বালুচরা সমাজ কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে সরকারি নথিতে তাদের মূল কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই ছিল।
চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। পরে প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বরের। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলার সময় স্কুলের অফিসকক্ষেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এবং এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস