সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৮তম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৩টি বড় ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় কৃষি, সড়ক পরিবহন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, নৌপরিবহন, স্বরাষ্ট্র এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট ক্রয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বুধবার অনুষ্ঠিত সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের আওতায় মরক্কোর প্রতিষ্ঠান ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির সুপারিশ করা হয়। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯৪ মার্কিন ডলার। এতে মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় বান্দরবানের আজিজনগর-নাজিরাম ত্রিপুরাপাড়া-লামা (গাজালিয়া) সড়ক উন্নয়নের দুটি প্যাকেজের প্রস্তাবও সভায় আসে। এর মধ্যে একটি প্যাকেজের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়নে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সড়কের আরেকটি অংশে বিদ্যমান মাটির সড়কের ওপর নতুন নমনীয় পাকা সড়ক নির্মাণের প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৯৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ কাজের জন্য স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন, দাখিল এবং কারিগরি স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দুটি প্রস্তাবেও অনুমোদনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। দুটি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যয় হবে প্রায় ৭৩৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সরবরাহের জন্য বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন বা ২০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেল কেনার আরেকটি প্রস্তাবও সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এ ক্রয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সরবরাহের জন্য সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড এবং শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় খুলনা বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পে পাঁচটি নতুন ৩৩/১১ কেভি এমভিএ উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবও সভায় অনুমোদনের সুপারিশ পেয়েছে। এ প্রকল্পে চুক্তিমূল্য প্রায় ১৩৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়নে টিএসটিএল-এফওয়াইপি কনসোর্টিয়ামকে সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে ভোমরা স্থলবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ম্যানুয়াল শ্রমিক নিয়োগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে বাগেরহাটের এম এ হাসেম অ্যান্ড সন্স।
সভার আলোচনায় ঢাকায় র্যাব সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাবও ছিল। প্রকল্পের আওতায় ১১ তলা ভবনের পাশাপাশি তিনটি বেজমেন্ট, গাড়ি পার্কিং, ম্যাগাজিন ভবন, সাবস্টেশন, পাম্প, পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, কার ওয়াশ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৯ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় এলএনজি আমদানির একাধিক প্রস্তাব সভায় পর্যালোচনা করা হয়। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর, বিপি সিঙ্গাপুর এবং ভিটল এশিয়া থেকে এলএনজি সংগ্রহের পৃথক প্রস্তাবের পাশাপাশি আরামকোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্বল্পমেয়াদি এলএনজি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিভিন্ন খাতের এসব ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ করা হয়।
সূত্র: বাসস
সদ্য সংবাদ/এসকে