চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সেজে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় চুরি হওয়া ১৭ আনা স্বর্ণালংকারের মধ্যে ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মস্তাননগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে তাঁদের আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁদের জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোগীর ছদ্মবেশে ১০ থেকে ১১ জন নারী হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড় ও ঠেলাঠেলি সৃষ্টি করেন। এ সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা তিন নারীর গলায় থাকা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১৭ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করা হয়। বিষয়টি কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার নজরে এলে তাঁরা সাত নারীকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার নারীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল এলাকার আমেনা খাতুন, সালমা ওরফে তানিয়া বেগম, অজুফা বেগম, হালিমা, শানজিলা ওরফে সাদিয়া, তাহমিনা আক্তার এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আমিনা খাতুন।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মোতালেব বলেন, রোগীরা টিকিট নিতে লাইনে দাঁড়ালে নারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড় তৈরি করে তাঁদের গা ঘেঁষে কৌশলে স্বর্ণালংকার চুরি করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে কয়েকজন মিলে তাঁদের হাতেনাতে আটক করেন। এর আগেও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাজারে চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁরা ধরা পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মোহাম্মদ শামীম বলেন, বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে নারী রোগীদের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা স্থানীয়রা তাঁদের জানান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাত নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চুরির অভিযোগে সাত নারীকে আটক করা হয়েছে। চুরি হওয়া ১৭ আনা স্বর্ণালংকারের মধ্যে তাঁদের কাছ থেকে ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করার সময় চক্রের অন্য সদস্যরা বাকি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারীরা চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন মেলা, সমাবেশসহ জনসমাগমপূর্ণ স্থানে গিয়ে চুরি-ছিনতাই করেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও হাসপাতালের ভেতরে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এআর