খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের পনছড়ি বনবিহারে চতুর্থবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই বিহার প্রাঙ্গণে ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা ও পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে বুদ্ধপূজা, সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কার দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তিপ্রিয় চাকমা। এ ছাড়া দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জ্ঞানজিত চাকমা এবং দীঘিনালা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় আলোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শুভপ্রিয় মহাস্থবির ভান্তে এবং লংগদু তিনটিলা বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মালোক মহাস্থবির ভান্তে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এ সময় বিশেষ অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কঠিন চীবর দান শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ উৎসব মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চাকে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতেও এমন আয়োজনের গুরুত্ব রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং সব প্রাণীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরে বিকেলে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশে কঠিন চীবর ও কল্পতরু দান করা হয়।
সদ্য সংবাদ/এজে