রাজধানীর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পরীক্ষার হলে নকল ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষার্থী। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রমাণসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানা নেতিবাচক কথা শুনলেও সেগুলোকে গুজব বলে মনে করেছিলেন। তবে পড়াশোনা শুরু করার পর পরীক্ষার হলে অনিয়মের চিত্র দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরীক্ষার সময় কিছু শিক্ষার্থী বই-খাতা ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তর লেখেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার হলে এসব সামগ্রী ব্যবহার এবং নকল করা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নজরদারির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই শিক্ষার্থী। তাঁর ভাষ্য, পরীক্ষার হল ও শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যথাযথ ভূমিকা না রাখার কারণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনেক শিক্ষক পরীক্ষার হলে অনিয়ম দেখেও নীরব থাকেন বলেও অভিযোগ তাঁর।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আরও বলেন, পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো শিক্ষকদের কাছ থেকে অসহযোগিতা ও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরার পরও প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ ওই শিক্ষার্থীর। তাঁর দাবি, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে পরীক্ষার হলের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরীক্ষার হলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। তাঁর হুঁশিয়ারি, অল্প সময়ের মধ্যে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংযুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকল ও অনিয়ম চলতে থাকলে শিক্ষার মান এবং পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সদ্য সংবাদ/এজে