সরকারি চাকরিতে ১৪তম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল আলম সমরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মীর আব্দুল বারেক। ওই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে পাওয়া স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, মীর আব্দুল বারেকের নামে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের জোরপুল ও শাপলা হাউজিং এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। ভবনটির নির্মাণ ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট নথিতে ভবনটির অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন এক কর্মকর্তা।
এ ছাড়া সাভার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে জমি থাকার অভিযোগও উঠেছে। রাজধানীর কল্যাণপুর ও মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট, আমিনবাজারে জমি, হেমায়েতপুরে বাড়ি এবং সিংগাইরে জমি থাকার তথ্যও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
প্রশাসনিক কারণে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মীর আব্দুল বারেককে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে কয়েক মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে যোগ দেন। পরবর্তীতে সেখান থেকেও বদলি হয়ে বর্তমানে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন।
মীর আব্দুল বারেক ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের সংগঠন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতির (বাপসা) ঢাকা জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে প্রশাসনিক মহলে তার যোগাযোগ ও প্রভাব ছিল। এমনকি বদলি ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
সচেতন মহলের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর আয়, সম্পদ ও জীবনযাত্রার মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং সম্পদ অর্জনের উৎস তদন্ত করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসএস