প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিন পেয়েছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিদিশার পক্ষে জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. মাসুদ মিয়া।
এর আগে একই মামলায় জামিন চেয়ে করা আবেদন ২ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির। ওই আদেশের পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিদিশা।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুলশান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ ছিল মোশাররফ হোসেনের। বিভিন্নজনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান। পরে সেটি বিক্রির বিষয়ে দুজনের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।
চুক্তির পর ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন মোশাররফ।
এরপর ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বায়নানামা সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ এবং ফ্ল্যাটটি ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বিদিশা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
এই মামলাতেই বিদিশার বিরুদ্ধে দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। রোববার সেই আবেদনের শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত।
সদ্য সংবাদ/এসএস