রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) নিয়োগ, পদায়ন, বদলি এবং ক্রয়প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার শামীম আহমেদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।
ইডিসিএলের বগুড়া কারখানায় ছাব্বির আহমেদের নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শামীম আহমেদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত নিয়োগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছাব্বির আহমেদকে বগুড়া কারখানার প্রকৌশল বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর তাঁকে ওই পদে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে নিয়োগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং প্রযোজ্য নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। তাঁদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে বিস্তারিত নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলো যাচাই করতে বদলির আদেশ, পদায়নসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অনুমোদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ইডিসিএলের বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব ঘটনার কারণে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ইডিসিএলের প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়গুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুজ্জামান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরকত উল রইসের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগকারীদের প্রশ্ন রয়েছে।
ইডিসিএলের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও টেন্ডারসংক্রান্ত অভিযোগগুলো যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
সূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি
সদ্য সংবাদ/এসএস