পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর আবারও কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে শুক্রবার গভীর রাতে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শনিবার ভোরে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি আসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর। মঙ্গলবার আদালত তার স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও তা আদালতে গৃহীত হয়নি।
হাসপাতালে নেওয়ার আগে এবং ইমরান খান সেখানে অবস্থানকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। হাসপাতালটির আশপাশে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকার কয়েকটি সড়কে চলাচলও সীমিত করা হয়েছিল।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার সমর্থকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, চিকিৎসার জন্য তাকে দীর্ঘ সময় সেখানে রাখা হতে পারে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল থেকে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
২০২২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর থেকেই একাধিক আইনি জটিলতার মুখে পড়েন ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা বিদেশি উপহারের তথ্যসংক্রান্ত মামলা থেকে শুরু করে দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে সাজা হয়েছে।
আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায়ও তাকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাবন্দি অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে তার পরিবার ও রাজনৈতিক দল। উন্নত চিকিৎসার দাবিও জানানো হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
এদিকে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দ্রুতই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ইমরান খানের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: দ্য ডন
সদ্য সংবাদ/এসএস