তিব্বত-নেপাল সীমান্তে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ভয়াবহ সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বতের জিরোং পোর্ট এলাকায় হঠাৎ করেই পাহাড়ের দিক থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানির স্রোত নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্রোতটি পার্কিং এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেখানে থাকা একের পর এক গাড়ি পানির তোড়ে ভেসে যেতে দেখা যায়।
আকস্মিক স্রোত নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে থাকা লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা কাদা-পানি ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভিডিও ফুটেজে।
তিব্বত থেকে আসা এই প্রবল ঢল নেপালের রসুয়া অঞ্চলে প্রবেশ করে ভোটে কোশী নদীর অববাহিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। রসুয়ার পাশাপাশি ধাদিং ও নুয়াকোট জেলার বেশ কিছু এলাকাও দুর্যোগের কবলে পড়েছে।
নেপালে এখন পর্যন্ত এই বন্যায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও রয়েছেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকা থেকে ৫৭৯ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের তালিকায় ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তাদের একটি অংশ কৈলাশ মানসরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদেরও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পাশাপাশি নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবারের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ব্যাপকতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস