পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে করা সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি কার্যকর রয়েছে এবং ভারতকে এর শর্ত মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত। একই সঙ্গে চুক্তির আওতাভুক্ত নদীগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রেও ভারতের ওপর নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।
সোমবার দেওয়া আদালতের আদেশের খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চুক্তিটি বাতিল বা স্থগিত রাখার মতো গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ভারত দেখাতে পারেনি। ফলে চুক্তির অধীনে থাকা ভারতের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতাগুলো বহাল থাকবে।
সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি পাকিস্তানের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি এই পানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
গত বছরের এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি পর্যটন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ভারত সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান।
এরপর কাশ্মীর অঞ্চলে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করে ভারত। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থায় নিয়ে যায় পাকিস্তান।
দীর্ঘদিনের বিরোধ ও একাধিক সামরিক সংঘাতের মধ্যেও ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি দুই দেশ এতদিন কার্যকর রেখেছিল। তবে গত বছর চুক্তির আওতায় ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়।
সালিশি আদালত জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর ওপর নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও পরিচালনাতেও চুক্তির নিয়ম অনুসরণ করতে হবে ভারতকে।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে রায়টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত এই সালিশি আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না। ভারতের দাবি, তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পের ওপর ওই আদালতের কোনো কর্তৃত্ব নেই। ফলে রায়ের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর ওপর বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
এদিকে চুক্তির সঙ্গে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সামঞ্জস্যের বিষয়টি নির্ধারণে বিশ্বব্যাংকের মনোনীত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের ভূমিকার কথাও জানিয়েছে আদালত। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ওই বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা রয়েছে।
রাতল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও পাকিস্তানের একটি দাবিকে গ্রহণ করেছে আদালত। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তের পর ৯০ দিন পর্যন্ত প্রকল্পটির বাঁধের দেয়াল ও বিদ্যুৎ পানি গ্রহণ কাঠামো নির্ধারিত উচ্চতার বেশি নির্মাণ করতে পারবে না ভারত।
সদ্য সংবাদ/এসএস