ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ভোটারসংখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খসড়া তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি কমেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত তালিকায় নতুন করে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভোটার যুক্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে আন্দোলন ও বিতর্ক চলার মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। এর আগে খসড়া তালিকা তৈরির সময় ১ কোটি ৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।
কর্ণাটকের প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করেও ভোটাররা নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত তালিকায় রাজ্যটিতে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ২৫ লাখের বেশি। নারী ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ২৯ লাখের বেশি। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৮৪১।
বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি। অন্যদিকে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে।
খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিকানা পরিবর্তন অথবা যাচাইয়ের সময় তাদের খুঁজে না পাওয়া। এ কারণে বাদ পড়েছে ৮০ লাখ ৬২ হাজার নাম। এ ছাড়া মৃত হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় ১৬ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি এবং একাধিকবার নাম থাকায় ৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। অন্যান্য কারণে বাদ পড়েছে আরও ৩ লাখ ৮৩ হাজার নাম।
তবে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। বিশেষ করে ঠিকানা পরিবর্তন কিংবা যাচাইয়ের সময় অনুপস্থিত থাকার কারণে যাদের নাম বাদ গেছে, তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভোটার নিবন্ধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদন যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
ভোটারদের নাম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পোর্টালে পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়। তবে অনলাইনে নাম না পাওয়া গেলেই তা বাদ পড়ার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। প্রয়োজনে সরকারি ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস
সদ্য সংবাদ/এসএস